ডেস্ক
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন। দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত নিম্ন ও মধ্য গ্রেডের কর্মকর্তারা সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়ে বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের বরাদ্দ নির্ধারণের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেক্টরে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল প্রবর্তনের পর প্রায় ১১ বছর অতিক্রম করেও ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়নি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জীবনযাপনের ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। খাদ্যদ্রব্য, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ অতীতের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা ব্যাংক ও প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ গ্রহণ করে দৈনন্দিন জীবন চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত যুক্তিগুলো হলো: দীর্ঘ সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা না হওয়া, দ্রব্যমূল্যের তুলনামূলক উর্ধ্বগতি এবং বেতন কাঠামোর বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্য। এ কারণে সরকারি চাকরির আকর্ষণ কমে যাচ্ছে, কর্মচারীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর প্রভাব পড়ছে। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ন্যায্য বেতন নিশ্চিত হলে কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
কর্মচারীরা স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনমান উন্নত করা হোক। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনমান নিশ্চিত করা হলে রাষ্ট্রীয় সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহও বজায় থাকবে।


