রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সোমবার দেশের জ্বালানি নীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী তেলের রিজার্ভ বেশি থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় তিনি জানান, বিভিন্ন পাম্পে যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যা সাধারণ জনগণের ভোগান্তির প্রতিফলন।
ডা. শফিকুর রহমান সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সরকারি নোটিশের মাধ্যমে সংসদে এই বিষয়ে কথা বলা সীমিত করা হচ্ছে। তিনি বর্তমান সংসদের গঠন ও সদস্যদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, সংসদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকে অতীতে জেল খেটেছেন, নির্বাসনে ছিলেন বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দমনমূলক পরিস্থিতি সহ্য করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন সংসদ সাধারণ জনগণের কষ্ট ও সমস্যার যথাযথ সমাধান করতে পারবে কি না।
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক বাধা তৈরি হয়েছিল, নতুন প্রজন্ম তা মোকাবিলা করে এসেছে। তিনি যুক্তি দেন যে, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তিগত পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জামায়াতের পক্ষে ভোট প্রদান করলেও সেই ফলাফল যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
ডা. শফিকুর রহমান জাগপার অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও দলের কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যারা দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও ন্যায্যতার চর্চা করতে সক্ষম নয়, তারা দেশের জনগণের অধিকারের সুরক্ষা দিতে পারবে না। তিনি আশ্বাস দেন, দলের সংসদ সদস্যরা জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে এবং জাতীয় সমস্যার সমাধানে সংহত ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনা সভায় জাগপার মুখপাত্রসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার সমাপনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় জোর দেন যে, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দল বিভিন্ন স্তরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ রোধে প্রস্তুত থাকবে।
সভায় আলোচিত বিষয়সমূহের মধ্যে মূলত জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি, সংসদের কার্যক্রম, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং দলের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা ছিল। বিশেষভাবে এই সভায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনগণের অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের নীতি-নির্ধারক সংস্থার কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।


