খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, সংসদে তথ্য উপস্থাপন

খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, সংসদে তথ্য উপস্থাপন

 

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমান খেলাপী ঋণের মোট পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপী ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তথ্যটি তিনি সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত এর প্রশ্নের জবাবে উপস্থাপন করেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর সেশনে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপীর তালিকা সংসদে তুলে ধরেন। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি., এস আলম ভেজিট্যাবল অয়েল লি., এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাজট্রিজ লি., এস আলম কোল্ড রোলড স্ট্রিলস লি., সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানী লি., গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইসপাত লি., এস আলম ট্রেডিং কোম্পানী প্রাইভেট লি., ইনফিনাইট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাজট্রিজ লি., কেয়া কসমেটিকস লি., দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্ট লি., প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি., কেরাণীগঞ্জ ফুডস (প্রা.) লি., মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানী, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি., এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।

অর্থমন্ত্রী জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলাপী ঋণের মধ্যে প্রায় তিন হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপী হিসেবে দেখানো হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদ সদস্যদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ব্যাঙ্কিং খাতে খেলাপী ঋণের এই পরিমাণ আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শীর্ষ খেলাপী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ঋণ পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

গত কয়েক বছরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপীর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে, বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতে অনিয়ন্ত্রিত ঋণগ্রহণ এবং বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় খেলাপী ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন যে, ঋণগ্রহণকারীদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো, ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং খেলাপী ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে।

ঋণ খেলাপী সংক্রান্ত এই তথ্য প্রকাশের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া পুনঃমূল্যায়ন করতে পারে। পাশাপাশি, আইনগত কাঠামোতে সংশোধনী আনা এবং ঋণ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট খেলাপী ঋণের বৃহৎ অংশ শিল্প ও বাণিজ্য খাতে কেন্দ্রীভূত। বিশেষভাবে এস আলম গ্রুপসহ শীর্ষ কর্পোরেটগুলোর ঋণ খেলাপী পরিমাণ দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খেলাপী ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আর্থিক খাতের সুনিয়ন্ত্রিত প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণ খেলাপী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের তথ্য নিয়মিতভাবে সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ