আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হলে আগের যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে বেশি সমর্থন পাবেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব শেষ হলে তিনি ভেনেজুয়েলায় গিয়ে স্থানীয় ভাষা দ্রুত আয়ত্ত করার পর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি এখানের কাজ শেষ করলে ভেনেজুয়েলায় যাব। খুব দ্রুত স্প্যানিশ শিখে ফেলব—ভাষা শেখায় আমি ভালো। তারপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করব।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় যিনি দায়িত্বে আছেন, তার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। এরপর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগ্রেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সংঘাত মাত্র ৪৫ মিনিটেই সমাধান হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সংগ্রহ করেছে। তিনি জানান, “আমরা শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়েছি—যা এখন হিউস্টনে পরিশোধিত হচ্ছে। এই তেল দিয়েই যুদ্ধের খরচ বহুবার উঠে এসেছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় এখন ‘ভালো মানুষ’ দায়িত্বে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ভালো। তিনি এটি ‘অংশীদারিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ব্যাখ্যা বহন করতে পারে, তবে এতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্নও উত্থিত হয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মার্কিন তেল নীতি নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক সংকট এবং তেল রপ্তানি সংক্রান্ত ইস্যু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্পের মন্তব্য পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা।


