ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ প্রস্তুতি সম্পন্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ প্রস্তুতি সম্পন্ন

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী উভয় আসনে নির্বাচন নির্বাহী কার্যক্রম, ভোটার তালিকা যাচাই, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় স্টাফ নিয়োগসহ অন্যান্য নির্বাচনি প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী কর্মসূচি, কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সকল প্রকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার।

এই আসনে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়ী হন। তবে সংসদে একই সঙ্গে দুইটি আসনের সদস্য থাকা আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়, তাই তিনি ঢাকা-১৭ আসন ধরে রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছাড়েন। পরবর্তীতে বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে ভোটের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্নের প্রস্তুতি নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আশা করছে যে, উভয় আসনে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে। কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভোটারদের যথাযথ উপস্থিতি এবং নির্বাচনী ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, এই নির্বাচনগুলো আগামী জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের ফলাফল দলীয় সমীকরণ ও পার্লামেন্টারি কার্যক্রমে প্রভাবিত হতে পারে।

এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতি, কেন্দ্রস্থল ব্যবস্থা ও ভোটার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কেন্দ্রগুলোর দিকে নজর রাখা হবে এবং ভোটগ্রহণের দিন যেকোনো অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ