ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি: রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি: রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়া মনে করছে যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘একতরফাভাবে বিনা উসকানিতে আগ্রাসী হামলা’ পরিচালনা করেছিল এবং উভয়েরই সেখানে ‘শোচনীয় পরাজয়’ ঘটেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা গতকাল এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন।

তেহরানে গত ২৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হয়। সংঘাত চলাকালীন টানা ৪০ দিন ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। এরপর ৭ এপ্রিল ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। একই দিনে ইসরায়েলও ঘোষণা দেয় যে ইরানে আর কোনো সামরিক হামলা পরিচালনা করা হবে না।

রাশিয়ার মুখপাত্র ঝাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আমাদের দেশের আহ্বান ছিল যে এই আগ্রাসী হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। কারণ, পরিস্থিতির সামাধান সামরিক পদ্ধতিতে সম্ভব নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলা একতরফাভাবে সংঘটিত হয়েছিল এবং ফলশ্রুতিতে উভয়েরই শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এখন অবিলম্বে একটি প্রকৃত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান শুরু করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের অবস্থানকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে একটি স্থায়ী নিষ্পত্তি প্রস্তুত করা হবে।”

ঝাখারোভা রাশিয়ার অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তার মতে, সামরিক সংঘর্ষ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে অক্ষম, এবং তা বরং নতুন উত্তেজনা ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

এই সংঘাতের পটভূমিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক তর্ক-বিতর্ক এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, তা কার্যকর রাখতে হলে সমস্ত পক্ষকে আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আন্তরিক অংশগ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত এই সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শক্তি ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়ার স্পষ্ট বার্তা হলো, সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক সংলাপ এবং রাজনৈতিক সমাধানই স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ