আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

আইন আদালত ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৫ মার্চ এ রায়ের দিন ধার্য করেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। পরবর্তীতে ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করা হয় এবং ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। ওইদিন দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক মোড় এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তীতে আন্দোলনের গতি ত্বরান্বিত হয়।

ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মামলার রায় দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলোতে এ রায় ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে খালাস দেওয়া হতে পারে। মামলার রায়ের দিকে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি রয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ