জেলা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। সম্প্রতি তিনি একটি সাক্ষাৎকারে জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা। তার মতে, পূর্বে প্রণীত বাজেট ও প্রকল্প কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান জনআকাঙ্ক্ষা এবং স্থানীয় চাহিদার সমন্বয় করে অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে তিনি অগ্রাধিকার খাতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদানসহ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
চলমান প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার বিষয়টি তুলে ধরে প্রশাসক জানান, জেলা পরিষদের অধীনে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্প জনস্বার্থে কম গুরুত্বপূর্ণ বা কার্যকর নয় বলে বিবেচিত হবে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে তিনি অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্তমানে ২০০টিরও বেশি ছোট-বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক নির্মাণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ভবঘুরে ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কেন্দ্রের আবাসস্থল সংস্কারে প্রায় ২৫ লাখ টাকার প্রকল্প চলমান আছে। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের কার্যক্রম উন্নয়নে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আরসিসি ঢালাই কাজও চলমান রয়েছে।
জনসেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় জেলা পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় অসহায় পরিবারের আবাসন সহায়তা, জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, জেলা পরিষদের সক্ষমতার আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং খাল খননের মতো পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে নিজের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরাসরি শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিবর্তে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো বিনিয়োগকে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
জেলা পরিষদকে জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আগামী এক বছরে জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও দৃশ্যমান ও সেবামুখী করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমের ব্র্যান্ডিং ও জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সামগ্রিকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততাকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


