চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের এআই ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের এআই ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান

অর্থনীতি প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডাটা অ্যানালিটিক্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে হিসাববিজ্ঞান পেশায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

শনিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সেশনে সিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ প্রদান করা হয়।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান যুগ সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর একটি যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ও কর্পোরেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা অ্যানালিটিক্সের অগ্রগতির ফলে হিসাববিজ্ঞান পেশার কাজের ধরনেও মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিস্থিতিতে নবীন পেশাজীবীদের কেবল প্রচলিত জ্ঞান নির্ভর না থেকে প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা এখন শুধু হিসাবরক্ষকের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ নন; বরং তারা প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এ কারণে তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্ত্রী পেশাগত সততার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অ্যাকাউন্টিং পেশার মূল ভিত্তি হলো জনআস্থা। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পেশাগত উৎকর্ষ অর্জন সম্ভব নয়; বরং পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে নিয়মিত মানিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা আধুনিক সমাজ ও পুঁজিবাদের কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছেন, যাদের তিনি “অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়াল” হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, হিসাববিজ্ঞান কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটি আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তিনি নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিকতার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিবেদনের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ অপরিহার্য।

আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন এফসিএ নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানসম্মত শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে আসছে। তিনি নবীন পেশাজীবীদের নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাগত দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং নবীন গ্র্যাজুয়েটদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি একটি সুসংগঠিত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যেখানে পেশাগত উৎকর্ষ ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ