যশোরে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার; জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত

যশোরে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার; জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত

ডেস্ক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। তবে কৃষি উৎপাদন ও জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিশেষ করে চলমান সেচ মৌসুমে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে যশোরে এক কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয় করা হচ্ছে। কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যশোর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৭ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শা উপজেলার উলাশীতে যাবেন। সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমে অংশ নেবেন তিনি। একই দিন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনের কথা রয়েছে। পরে ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যশোর অঞ্চলের যেসব উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে ছিল, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সেগুলো পুনরায় গতি পাবে বলে সরকার আশা করছে। তার ভাষায়, “বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে যশোরে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এই সফরের মধ্য দিয়ে নতুন গতিতে ফিরবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ একটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ। এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে এই হাসপাতাল স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আসন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্প এলাকার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করেন।

এরপর তিনি শার্শা উপজেলার উলাশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোরে উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চলমান উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ