কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলমত-ধর্ম-বর্ণের বিবেচনা করা হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলমত-ধর্ম-বর্ণের বিবেচনা করা হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

রংপুর — জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয়, মতাদর্শ, ধর্ম বা বর্ণ বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদেরই এসব সুবিধার আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৪৭তম বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃষি উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে আগামী ১৪ এপ্রিল পঞ্চগড়ের পাঁচপীর এলাকায় দুই হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন স্তরের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারা এই সুবিধা পাবেন তা মন্ত্রণালয় পর্যায় থেকে সরাসরি নির্ধারণ না করে মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিবেচনা প্রাধান্য পাবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে, যার আওতায় মোট লক্ষাধিক পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানে কোনো ধরনের বিভাজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা যাবে না। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন, যেসব পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুব সমাজকে মাদক ও সামাজিক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পরিবার, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। একই দিনে তিনি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার ১০০টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এছাড়া ১৩০টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ সহায়তা এবং ৪৩০ জন ব্যক্তিকে চাল প্রদান করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ