রাজধানীর বনানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

রাজধানীর বনানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

রাজধানী প্রতিনিধি

রাজধানীর বনানীতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। রবিবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বনানীর এরশাদ মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলা রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, হাম ও রুবেলা একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সঠিক সময়ে টিকাদান না হলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে দেশব্যাপী সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগর এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে টিকার আওতায় এনে রোগের সংক্রমণ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা।

ডিএনসিসি এলাকায় এ কর্মসূচির আওতায় ৫৪টি ওয়ার্ডে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত টিকা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। তারা আরও বলেন, শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই এ ধরনের ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ক্যাম্পেইনের আওতায় নির্দিষ্ট বয়সসীমার শিশুদের নিয়মিতভাবে টিকা প্রদান করা হবে এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, নগর এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করে শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুধু একটি স্বাস্থ্য উদ্যোগ নয়, বরং এটি শিশু মৃত্যুহার ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সঠিক সময়ের মধ্যে টিকা প্রদান নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলমান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নগর এলাকার বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার আওতায় আসবে, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ