দিনাজপুরে কৃষি প্রণোদনা ও গবাদিপশু বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর বক্তব্য

দিনাজপুরে কৃষি প্রণোদনা ও গবাদিপশু বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর বক্তব্য

জাতীয় ডেস্ক

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে কৃষি প্রণোদনা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ছাগল বিতরণ এবং ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় গবাদিপশু বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হয় এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবার ও ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে গবাদিপশু হিসেবে ছাগল বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে শতাধিক সুবিধাভোগী পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও ফসল উৎপাদনের সময় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় পূর্ববর্তী সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। তিনি বলেন, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, যাতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সময় জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। তার ভাষায়, সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও দেশের অভ্যন্তরে কৃষি মৌসুমে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা ক্ষতির মুখে না পড়েন।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে জনসেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

তিনি তার বক্তব্যে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু, কৃষি ঋণ ব্যবস্থাপনা, খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ভিক্ষুক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করা ছাগলকে পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব গবাদিপশু পালন করে উপকারভোগীরা দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বিকল্প আয়ের উৎস সৃষ্টি করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিয়মিত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লু রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সুবিধাভোগীদের মধ্যে গবাদিপশু বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ