শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্য-সংকটজনিত বিঘ্ন কাটিয়ে ফ্লাইট চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্য-সংকটজনিত বিঘ্ন কাটিয়ে ফ্লাইট চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক

 

চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব কিছুটা কমে আসায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ও শনিবার (১০ ও ১১ এপ্রিল) বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলো আংশিকভাবে পুনরায় সচল হয়, যদিও কিছু ফ্লাইট এখনও বাতিল রয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই দুই দিনে মধ্যপ্রাচ্য রুটে মোট ১৫টি অ্যারাইভাল (আগমন) ও ১১টি ডিপার্চার (প্রস্থান) ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। একই সময়ে ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় আকাশপথে চলাচলে স্থবিরতা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইনস অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি আগমনী ফ্লাইট, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি আগমনী ও চারটি প্রস্থান ফ্লাইট, এয়ার আরাবিয়ার শারজাহ রুটে একটি আগমনী ও একটি প্রস্থান ফ্লাইট এবং সালাম এয়ারের মাস্কাট রুটে একটি আগমনী ও একটি প্রস্থান ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর এসব ফ্লাইট আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ায় যাত্রী পরিবহনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে।

বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, মধ্যপ্রাচ্য রুটে পরিচালিত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট—বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি গন্তব্যের ফ্লাইটগুলো—ধীরে ধীরে স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতির কারণে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় সক্রিয় হতে শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও রুট স্বাভাবিক হতে পারে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ার পর থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মোট ২৯৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ব্যাঘাতের ফলে যাত্রী পরিবহন, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর অপারেশনাল সূচিতে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক রুটে দীর্ঘ সময় ফ্লাইট বাতিল ও অনিয়মিত চলাচল সাধারণত যাত্রীদের আস্থা ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং আকাশপথে আঞ্চলিক সংযোগ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব সৃষ্টি করে। তবে ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া শুরু হলে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং বাতিল হওয়া রুটগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনাও তৈরি হবে। এর ফলে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ