আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ৫২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। শনিবার আয়োজিত এ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভ থেকে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ হিসেবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভটি ট্রাফালগার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমবেত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকেই হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ও বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তাদের অনেককে ফিলিস্তিনি স্কার্ফ পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। সমাবেশ চলাকালে কিছু অংশগ্রহণকারী রাস্তায় বসে এবং ক্যাম্পিং চেয়ারে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই মাসে একটি ঘটনার পর ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামের সংগঠনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই ঘটনায় সংগঠনটির কয়েকজন সদস্য যুক্তরাজ্যের একটি রয়্যাল এয়ারফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সংগঠনটির কার্যক্রমকে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং ব্রিটিশ সরকার এ ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে সহযোগী ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে ইসরায়েল গাজায় সংঘটিত কোনো ধরনের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনের একটি উচ্চ আদালত সংগঠনটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করে। আদালতের ওই রায়ে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং এটিকে বেআইনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে এর পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পান, ফলে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
আদালতের রায়ের পর এটিই ছিল ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর পক্ষে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বড় জনসমাবেশগুলোর একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিক্ষোভের পর বিপুল সংখ্যক গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশটির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জনসমাবেশের অধিকার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জনমত ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে উঠছে। এর ফলে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিক্ষোভ ও কর্মসূচি প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মুখে পড়ছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়।


