হেরাতে পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১১ জন নিহত, আহত আরও অনেকে

হেরাতে পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১১ জন নিহত, আহত আরও অনেকে

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশের ইনজিল জেলায় একটি পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রথমে চারজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও পরবর্তী সময়ে গুরুতর আহত আরও সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে মোট নিহতের সংখ্যা ১১ জনে উন্নীত হয়। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে দেহ মেহরি গ্রামের কাছে একটি বিনোদনকেন্দ্র এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলে জানানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ব্যক্তিরা হঠাৎ করে উপস্থিত মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

হেরাতের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময়টি স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে ঘটে। তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রাদেশিক প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি জানান, হামলাটি জনবহুল একটি এলাকায় সংঘটিত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ বিনোদনের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের এক চিকিৎসক জানান, নিহতদের সবাই শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা একটি স্থানীয় মাজার এলাকায় পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের মধ্যে দুই নারীসহ অন্তত ১৫ জনকে দ্রুত হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বরাতে জানানো হয়, হামলার স্থানটি শিয়া অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে একটি শিয়া ধর্মীয় মাজার রয়েছে, যেখানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সমবেত হন। তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য নিরাপত্তা অভিযান শুরু করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।

আফগানিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় অতীতেও একাধিকবার সহিংস হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাকেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থলে সংঘটিত এসব হামলায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক এই হামলা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকায় জনসমাগম লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

হামলার প্রকৃতি, লক্ষ্যবস্তু এবং সময় বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ