হামের প্রাদুর্ভাব রোধে টিকাদান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের অংশগ্রহণের আহ্বান

হামের প্রাদুর্ভাব রোধে টিকাদান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের অংশগ্রহণের আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে দেশে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, টিকাদান কার্যক্রমকে সফল করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত প্রচারণা এবং ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রবিবার সকালে রাজধানীর কড়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জরুরি টিকাদান কর্মসূচিকে সফল করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনতে হলে পরিবার পর্যায়ে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জনসংখ্যার বড় একটি অংশকে টিকাদানের আওতায় আনতে না পারলে হামের মতো সংক্রামক রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না। কার্যকর রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে কমপক্ষে শতকরা ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে, যাতে সামান্য কিছু শিশু বাদ পড়লেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি না হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা প্রদান করছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনসমূহ সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে দেশের সব শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নগর এলাকায় ঘনবসতির কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ কারণে সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক ঢাকায় হামের চিকিৎসার জন্য একটি পৃথক হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনার জন্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, নগর এলাকায় বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব থাকায় সংক্রমণ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধযোগ্য হলেও টিকা গ্রহণে অনীহা বা সচেতনতার ঘাটতি থাকলে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি থেকে যায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত বয়সের সব শিশু টিকার আওতায় আসে এবং দীর্ঘমেয়াদে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ