তথ্য অধিকার আইন সংশোধনে অংশীজনদের মতামত নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস

তথ্য অধিকার আইন সংশোধনে অংশীজনদের মতামত নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস

জাতীয় ডেস্ক

বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রবিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘তথ্য অধিকার ফোরাম’-এর কোর গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তথ্য অধিকার আইন সংশোধন প্রক্রিয়া, তথ্যপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন সংশোধন অধ্যাদেশ স্থগিত রাখার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রবাহের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসারের ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে একই সঙ্গে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রচারও বেড়েছে। এ অবস্থায় তথ্যের প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশীজনদের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়ন করা হবে। তিনি তথ্য কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও কার্যকারিতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় তথ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে গঠনমূলক প্রস্তাব প্রত্যাশা করেন এবং তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট চেকিং) ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই নিশ্চিত করা হলে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার কমানো সম্ভব হবে।

আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া হবে অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ। এতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।

বক্তারা তথ্য অধিকার আইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা তথ্য কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রকাশে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মত দেন যে, তথ্য অধিকার আইনকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে হলে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি পরিবেশ, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্যের অপব্যবহার রোধে উপযুক্ত কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ