অর্থনীতি ডেস্ক
চলতি বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) হিসেবে এসেছে ১২১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১১ কোটি ৭ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ ২০ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে উৎসাহ, প্রণোদনা সুবিধা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
এর আগে মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ বাড়ে, যা মার্চের রেকর্ড প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী ছিল। জানুয়ারিতে দেশে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ধারাবাহিকভাবে কয়েক মাস ধরে উচ্চ প্রবাহ অব্যাহত থাকায় সামগ্রিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করতে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।


