আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে জ্বালানি খাতের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার আগে যে উৎপাদন সক্ষমতা ছিল, তার অন্তত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উপ-তেলমন্ত্রী মোহাম্মদ সাদেক আজিমিনিফার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।
তিনি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ লাওয়ান তেল শোধনাগারের একটি অংশ আগামী ১০ দিনের মধ্যেই চালু করা সম্ভব হতে পারে। বাকি ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কারিগরি দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তেল শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি খাত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই খাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে পারলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এদিকে, জ্বালানি অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান সরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত উৎপাদন স্বাভাবিক করার এই উদ্যোগকে ইরানের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


