খেলাধূলা ডেস্ক
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে ব্যবধান আরও কমিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করে পেপ গার্দিওলার দল। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে আনে সিটি, যদিও তারা একটি ম্যাচ কম খেলেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক অবস্থান নেয় এবং গোলের স্পষ্ট সুযোগ সীমিত ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সিটির আক্রমণভাগ কার্যকর হয়ে ওঠে। ৫৫ মিনিটে নিকো ও’রেইলি প্রথম গোলটি করেন। এরপর ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মার্ক গুহি ব্যবধান বাড়ান। শেষদিকে ৮২ মিনিটে জেরেমি ডকু তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচে সিটির আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রায়ান চেরকি। তার দুটি অ্যাসিস্ট থেকে দুটি গোল আসে, যা চেলসির রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত আক্রমণ রূপান্তরের ক্ষেত্রে সিটি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিল।
এই জয়ের ফলে ম্যানচেস্টার সিটির সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়ে শীর্ষস্থানে থাকা আর্সেনালের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দলের মধ্যকার পরবর্তী ম্যাচটি শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য সেই ম্যাচে উভয় দলের জন্যই পয়েন্ট অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিটির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের শিরোপা প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে। এর আগে তারা লিগ কাপের ফাইনালে আর্সেনালকে পরাজিত করে শিরোপা জেতে এবং এফএ কাপে লিভারপুলকে বড় ব্যবধানে হারায়। এই ধারাবাহিক সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
অন্যদিকে, এই পরাজয়ের ফলে চেলসির লিগ টেবিলে অবস্থান আরও চাপে পড়েছে। তারা বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে লড়াই করছে। তবে এই হারের কারণে পয়েন্ট ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের তুলনায় চেলসি চার পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
চেলসির পারফরম্যান্সে রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তারা প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। পাশাপাশি মাঝমাঠে বল দখলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারাও তাদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
লিগের শেষ পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল শিরোপা ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সে বিবেচনায় ম্যানচেস্টার সিটির এই জয় লিগের প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।


