শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগে ৭ জন আটক

শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগে ৭ জন আটক

আইন আদালত ডেস্ক

রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তসহ মোট সাতজনকে আটক করেছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।

র‍্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মঈন উদ্দিন মঈন (প্রধান অভিযুক্ত), মো. লিটন মিয়া, মো. সুমন, মো. শাওন, স্বপন কাজি, মো. ফালান ও রুবেল। অভিযানের সময় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকে নড়াইল জেলা থেকে আটক করা হয়। বাকি অভিযুক্তদের রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ওই হাসপাতালে কয়েকজন ব্যক্তি গিয়ে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা চাঁদা না দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকি দেন। একই সময় হাসপাতালের একজন চিকিৎসককে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে হয়রানির চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করা হয়।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করে। পরে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে।

এদিকে ঘটনার পরদিনই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে যান একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। তারা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আটক মঈন উদ্দিনের সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তারা ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ ও অর্থ দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জুলাইয়ের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, এই ধরনের অভিযোগে সাধারণত সংগঠিত একটি চক্র জড়িত থাকে, যারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চাঁদা দাবি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা রাজধানীতে মাঝেমধ্যে দেখা যায় বলে তারা উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষে পুরো চক্রের কার্যক্রম, তাদের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ