সরকারি পরিচালন ব্যয় হ্রাসে জ্বালানি, ভ্রমণ ও ক্রয় খাতে কড়াকড়ি নির্দেশনা

সরকারি পরিচালন ব্যয় হ্রাসে জ্বালানি, ভ্রমণ ও ক্রয় খাতে কড়াকড়ি নির্দেশনা

অর্থনীতি প্রতিবেদক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে গাড়ি ব্যবহার, জ্বালানি খরচ, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার এবং বিভিন্ন ধরনের সরকারি ক্রয় ব্যয় হ্রাসে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ৯ এপ্রিল জারি করা এ পরিপত্রে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছ্রসাধনের একাধিক বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে সরকারি দপ্তরগুলোকে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার বা কনফারেন্স আয়োজন ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণসহ অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ রয়েছে।

সরকারি খাতে নতুন করে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় সম্পূর্ণভাবে (১০০ শতাংশ) হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়ও শতভাগ হ্রাস করার নির্দেশ রয়েছে।

পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি, সার খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং এসব সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে অর্থ বিভাগের প্রণীত ব্যয় সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে সরকারি ব্যয় সংকোচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারি সেবা কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রশাসন এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন। বিশেষ করে ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ ব্যয় হ্রাসের ফলে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম ধীরগতির হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা আনার একটি উদ্যোগ হিসেবে এ সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এখন নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ পরিপত্র কার্যকর হওয়ার পর সরকারি দপ্তরগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ