জাতীয় ডেস্ক
সরকারি ব্যয় হ্রাসে কৃচ্ছ্রসাধন নীতির অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার বন্ধ করে কেবল বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর মাধ্যমে স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং প্রাণিসম্পদ খাতের ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় খামারিদের মাঝে উপকরণ বিতরণের উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সমস্ত ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। দেশ পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় রোধ করতে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তদারকি করছেন। সেই নির্দেশের প্রতিফলন হিসেবেই মন্ত্রণালয়ে এসি ব্যবহার ত্যাগ করে সাধারণ পাখা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রক্রিয়ায় সরকার এই ত্যাগ স্বীকার করছে। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতায় বাংলাদেশ অচিরেই একটি স্বনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বিগত সরকারের শাসন আমল এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়কালের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করলেও সীমিত সম্পদ ও ঋণের বোঝা থাকায় প্রত্যাশিত গতিতে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার কার্যত একটি শূন্য বা নেতিবাচক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।
আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সীমিত সম্পদ ও আয়ের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নই হবে এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চালিকাশক্তি। প্রান্তিক পর্যায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারলে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে আউশ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত মানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। এছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৫০ জন খামারিকে আধুনিক দুগ্ধ উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উপকরণ প্রদান করা হয়। সরকারের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন নাহার শিলা, সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে কারিগরি দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন। স্থানীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক কৃষক ও খামারি এই উপকরণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি প্রতীকী অর্থে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এতে প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে মিতব্যয়িতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদে সরাসরি ভর্তুকি এবং উপকরণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখাও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।


