সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫১ হাজারের বেশি হজযাত্রী, মক্কায় আইটি ও চিকিৎসা সেবা জোরদার

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫১ হাজারের বেশি হজযাত্রী, মক্কায় আইটি ও চিকিৎসা সেবা জোরদার

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের গমনের প্রক্রিয়া সফলভাবে অব্যাহত রয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত মোট ১৩১টি ফ্লাইটে ৫১ হাজার ১৯৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার যাত্রীরাই রয়েছেন।

আইটি হেল্পডেস্কের বুলেটিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সৌদি আরবে পৌঁছানো মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৭ হাজার ১২৩ জন যাত্রী মক্কা ও মদিনায় অবস্থান করছেন। যাত্রী পরিবহনে প্রধানত তিনটি বিমান সংস্থা নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ২৯৩ জন যাত্রী পরিবহন করেছে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইন্স ১৮ হাজার ৪২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮ হাজার ৮৫৯ জন হজযাত্রীকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে।

হজযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবাদানে সৌদি আরবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিশেষায়িত ডেস্ক কাজ করছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা হজযাত্রীদের জন্য মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো নিরলস সেবা প্রদান করছে। এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৯৯৮টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে আইটি হেল্পডেস্ক ১৪ হাজার ৮৬৯টি সেবা প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে হজযাত্রীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা সহজে পাচ্ছেন।

তবে হজযাত্রার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। মৃতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মক্কায় ১০ জন এবং মদিনায় ২ জন মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত ও প্রাকৃতিক কারণে এই মৃত্যুগুলো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সৌদি নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই তাদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রাক-নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার শেষ ফ্লাইট পরিচালিত হবে আগামী ২১ মে। এরপর শুরু হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফেরার জন্য প্রথম ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত করা হয়েছে ৩০ মে। পর্যায়ক্রমে সকল হাজীদের নিয়ে আসার এই ফিরতি কার্যক্রম পরিচালিত হবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

হজ অফিস ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের ফ্লাইট শিডিউল বজায় রাখা এবং সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। হজের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশ হজ মিশনের কার্যপরিধি আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে যাতে হজযাত্রীরা কোনো প্রকার বিড়ম্বনা ছাড়াই ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ