আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার এক বক্তব্যে তিনি জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে অন্তত এক বছর বিয়েতে স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকা এবং ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমানোর মতো কঠোর পরামর্শ দিয়ে দেশজুড়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছেন তিনি।
জ্বালানি সংকট ও কৃচ্ছ্রসাধন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা বর্তমানে উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতির ওপর।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, খনিজ তেল আমদানিতে ভারতের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই চাপ সামলাতে তিনি মহামারি করোনাকালের অভ্যাসগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “করোনার সময় আমরা ঘরে বসে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), অনলাইন মিটিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে অভ্যস্ত হয়েছিলাম। জাতীয় স্বার্থে এখন আবার সেই পদ্ধতিগুলো সক্রিয় করা প্রয়োজন, যাতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার এবং পরিবহন ব্যয় কমানো সম্ভব হয়।”
স্বর্ণ ও বিলাসদ্রব্য বর্জনের আহ্বান ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিয়ের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ স্বর্ণ। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তত এক বছর বিয়েতে স্বর্ণ না কেনার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তার মতে, স্বর্ণ আমদানিতে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। সাময়িকভাবে এই প্রবণতা বন্ধ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে।
একই সঙ্গে তিনি আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমিয়ে আনার ওপরও জোর দেন। মোদি মনে করেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ছোট ছোট ত্যাগ ও সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
কৃষি ও টেকসই উন্নয়ন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক চাষাবাদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রাসায়নিক সারের কাঁচামাল আমদানিতে সরকারকে বিশাল অর্থ ব্যয় করতে হয়। প্রাকৃতিক কৃষিপদ্ধতি একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে, অন্যদিকে জমির উর্বরতা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করবে।


