অপরাধ ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সন্দেহে বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের কলকাতা থেকে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১০ মে) বিহারের বক্সার এলাকা থেকে মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র ও ভিকি মৌর্যকে আটক করা হয়। একই দিন উত্তর প্রদেশের বলিয়া থেকে আটক করা হয় রাজ সিং নামে অপর এক অভিযুক্তকে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর পুলিশের সহায়তায় সিআইডির একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। রাতেই অভিযুক্তদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয় এবং সিআইডি সদর দপ্তর ভবানী ভবনে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বারাসাত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ ধারা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সিআইডির দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একটি শক্তিশালী আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্র বা শার্প শুটার গ্রুপের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মূলত আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা বালি টোল প্লাজা অতিক্রম করার সময় ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল পরিশোধ করেছিল। সেই ডিজিটাল পেমেন্ট ডাটা বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, অভিযুক্তরা উত্তর প্রদেশের দিকে পালিয়ে গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে সংগঠিত এই হামলায় চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সিআইডি এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর শপথের ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে নিছক অপরাধ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এটিকে একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেছে। সিআইডি কর্মকর্তারা এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে এই পেশাদার খুনিদের মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। খুনিরা কার নির্দেশে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তঃরাজ্য এই চক্রের সাথে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও পুলিশের রাডারে রয়েছে।


