অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহায় উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ঢাকার জয়দেবপুর থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যে একটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলের নিয়মিত চলাচলকারী নয়টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত কোচগুলোর মধ্যে শোভন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) উভয় ধরনের বগি থাকবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের আগে ২৩ মে থেকে ২৭ মে এবং ঈদের পরে ২৯ মে থেকে ৭运行 জুন পর্যন্ত ট্রেনগুলোতে বর্ধিত যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী ২৩ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত কয়েকটি ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ঢাকা-নীলফামারী রুটের চিলাহাটি এক্সপ্রেস/নীলফামারী এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটের সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে। নিয়মানুযায়ী ঈদের আগে প্রতিটি ট্রেনে একটি এবং ঈদের পরে দুটি করে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হবে, যার মধ্যে একটি শোভন ও একটি এসি বগি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া ঈদযাত্রায় যাত্রীদের অতি-চাপ সামাল দিতে রাজশাহী রুটের জনপ্রিয় চার জোড়া ট্রেন—বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের সুবিধার্থে দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেসেও ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। তবে কারিগরি ও পরিচালনগত কারণে আগামী ২৭ মে ৭৯৩ নম্বর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচল করবে না বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঈদের এই বিশেষ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুরোদমে চলছে রেলকোচ মেরামত ও পুনর্বাসনের কাজ। বাড়তি কোচের জোগান দিতে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীরা নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরেও অতিরিক্ত সময় ধরে পুরাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোচ মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারখানার সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক কোচ রেলবহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য রেলওয়েতে মোট ১২৭টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০৩টি কোচ মেরামত সম্পন্ন করে পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি কোচগুলোর মেরামত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যেই সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা এবং কর্মস্থলে ফেরা নিশ্চিত করতে জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নয়টি আন্তঃনগর ট্রেনের বহরে পর্যায়ক্রমে শোভন ও এসি বগি যুক্ত করা হবে। ঈদের আগে ও পরে নির্ধারিত নিয়মে বগিগুলো সচল থাকবে, যা ঈদযাত্রায় পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে বাড়তি স্বস্তি এনে দেবে।


