শিক্ষা ডেস্ক
নানা বিধিনিষেধ এবং শোকপ্রকাশের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এবারের খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপন নিস্তব্ধভাবে পালিত হয়েছে। বুধবার রাত থেকে ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা সীমিতভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং কোনো উৎসবমুখর কার্যক্রম দেখা যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ মোতায়েন ছিল। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টরিয়াল টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নিরাপত্তা টিম বাইরের কোনো ব্যক্তি বা যানকে প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছিলেন না। বুধবার রাত ১০টায় মেয়েদের হলগুলোও বন্ধ করা হয়। এর ফলে ক্যাম্পাসের সাধারণ এলাকা ও হোস্টেল প্রাঙ্গণে খুব কম জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমবেত হয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করেন। তবে এবারে করোনা মহামারি, নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শোকপ্রকাশের কারণে সেই ঐতিহ্যগত সমাগম সীমিত ছিল। তৎক্ষণাৎ টিএসসিতেও পুলিশি অবস্থান ছিল এবং শিক্ষার্থীদের জড়ো হওয়ার সুযোগ ছিল না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন, “আজ আমাদের কোনো আয়োজন নেই।” বঙ্গবন্ধু ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ভিপি তাসনিম আক্তার আলিফও উল্লেখ করেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করায় কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খালেদা জিয়া ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জাতীয় অনুভূতির সম্মান প্রদর্শন করা বর্তমান সময়ে সকলের নৈতিক দায়িত্ব। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিবছর নববর্ষের রাতে ফানুশ ও আতশবাজি থেকে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বিকট শব্দে মানুষের ও পাখিদের ক্ষতি হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীসহ দেশের সকলকে আতশবাজি, ফানুশ ওড়ানো ইত্যাদি আয়োজন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এভাবে নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এবং শোকপ্রকাশের কারণে এবারের নববর্ষ উদযাপন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই সীমিত ও নীরবভাবে পালিত হয়েছে।


