প্রধান বিচারপতি অধস্তন আদালতের বিচারকদের ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ

প্রধান বিচারপতি অধস্তন আদালতের বিচারকদের ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ

আইন আদালত ডেস্ক

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অধস্তন আদালতের বিচারকদের ফেসবুকসহ সকল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে দেশের সব পর্যায়ের জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে সতর্ক করে বলেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে তা বিচারিক জীবনের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

এই অভিভাষণটি প্রধান বিচারপতির ২৬তম দায়িত্ব গ্রহণের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণ। প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচারকের আসনে বসে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রশ্রয় পাবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। যদি কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।”

তিনি আদালতের কার্যক্রম আরও দ্রুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, শুনানি শেষ হওয়ার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। বিলম্বিত রায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ায় এবং আদালতের সময় অপচয় করে। তিনি আরও নির্দেশ দেন, সকল বিচারক এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বের প্রতি সতর্ক থাকা এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কেও প্রধান বিচারপতি বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষ ছাড়া কোনো বহিরাগত যেন এজলাসে প্রবেশ না করে। আদালতের প্রাঙ্গণে হকার বা ভাসমান বিক্রেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। এছাড়া, আইনজীবীদের নির্ধারিত ড্রেসকোড মেনে চলা এবং বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন পেশাদারিত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক হবে।

এই নির্দেশনা এমন সময় এসেছে যখন দেশের নিম্ন আদালতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস সময় এবং সকাল ৯:৩০ থেকে ৪:৩০ পর্যন্ত বিচারিক কর্মঘণ্টা নির্ধারিত রয়েছে। প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো আদালতের সময় ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করা।

গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন এবং ২৮ ডিসেম্বর তিনি শপথ গ্রহণ করেন। দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং আদালতের প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই ধরনের নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, রায় দ্রুত প্রদান এবং আদালতের প্রাঙ্গণ ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপর এই নতুন নির্দেশনা কেবল শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সময়মতো রায় প্রদান এবং বিচারপ্রার্থীর অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তা বিচারিক জীবনের গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ