শিক্ষা ডেস্ক
আজ ১ জানুয়ারি থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ শুরু হচ্ছে। এদিন প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। তবে উৎসব বা কোন প্রকার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে না; শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে সরাসরি বই সংগ্রহ করতে পারবে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক স্তরের সমস্ত বই ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি বই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব বই ছাপা, বাঁধাই ও কাটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর উপজেলায় বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) এবং কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের মুদ্রণ ও সরবরাহ কাজ এখনও চলমান। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে ৭৮.৭২ শতাংশ মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫৮.৬৮ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই সরবরাহের বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বছরের শুরুতে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ বছর বই বিতরণকে কেন্দ্র করে কোনো উত্সবের আয়োজন করা হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, করোনার প্রভাব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বিদ্যালয়ে কোন অনুষ্ঠান হবে না। শিক্ষকদের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় শোক ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন পালিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে তাদের নির্ধারিত পাঠ্যবই সংগ্রহ করতে পারবে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা বই সংগ্রহে কোন সমস্যা সম্মুখীন হবেন না, কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মার্চ মাসের আগে সমস্ত বই বিতরণ শেষ হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
এই বিতরণ কার্যক্রম শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, মন্ত্রণালয় ও বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের বই প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।


