ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

 

আইন আদালত ডেস্ক

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত করার জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১১ আসনে ১২-দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ড. কাইয়ুম তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, যা নির্বাচন আইনের পরিপন্থী। রিটে আদালতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, ড. কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সম্পর্কিত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানিয়ে রুল জারি করা হোক। রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী।

আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা সাংবাদিকদের জানান, চলতি সপ্তাহেই হাইকোর্টে রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রার্থিতার বৈধতা ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আশা করা যাচ্ছে।

ঢাকা-১১ আসনটি বাড্ডা, রামপুরা ও ভাটারা এলাকায় অবস্থিত। এর আগে, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম বর্তমানে দলের ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাহিদ ইসলাম তার বৈধ প্রার্থিতা নিশ্চিত করেও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনানুগতা নির্ভর করছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশে নির্বাচন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত। নির্বাচনী পদে প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা বা তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করা হলে তা প্রার্থীর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং ভোটারদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার প্রভাবিত হতে পারে।

বিএনপি এবং নাহিদ ইসলাম উভয়ের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পরও হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে, আদালতের রায় নির্বাচনের সুষ্ঠু ও অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে ঢাকা-১১ তে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা উচ্চপ্রাধান্য পেয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, আদালতের রায় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের আস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ আদালত থেকে রায়ের পর প্রার্থিতা স্থগিত বা বৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী কার্যকর হবে।

এই রিট আবেদনের বিষয়টি প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচন আইনের শর্তাবলী এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নজরদারির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার এবং রাজনৈতিক দলগুলো উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে লক্ষ্য রাখছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

আইন আদালত রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ