রাজধানী ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ দ্রুত গ্রহণের লক্ষ্যে বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নির্বাচনী কার্যক্রম চলাকালে নগরবাসী এসব নম্বরে যোগাযোগ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন ঘটনা কিংবা যেকোনো ধরনের অনিয়ম সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করতে পারবে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এই হটলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন কোনো ঘটনা পরিলক্ষিত হলে নগরবাসী ০১৩২০০৩৭৩৫৮, ০১৩২০০৩৭৩৫৯ এবং ০১৩২০০৩৭৩৬০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীতে জনসমাগম, মিছিল, প্রচারাভিযান, পোস্টার লাগানো, সভা-সমাবেশ এবং ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নানা ধরনের কার্যক্রম বাড়ে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে কোনো অনিয়ম, সহিংসতা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দ্রুত জানানো গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, হটলাইনে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বা মোবাইল টিমকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের আগে ও ভোটের দিনে প্রার্থী ও সমর্থকদের নির্দিষ্ট সীমার বাইরে প্রচার, অনুমতি ছাড়া সমাবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ বা উপহার বিতরণ, পোস্টার-ব্যানার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেই সতর্ক অবস্থান নেয়। ডিএমপির এই হটলাইন উদ্যোগের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা গেলে নিষিদ্ধ কার্যক্রম চিহ্নিত করা এবং তা প্রতিরোধ করা আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ভোটকেন্দ্র, প্রার্থীদের কার্যালয় এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি, মোবাইল প্যাট্রোলিং এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। হটলাইনে পাওয়া তথ্য এসব নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অতীতে রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার নজির রয়েছে। সে অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে এবার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হটলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি পুলিশকে তথ্য দিতে পারলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নাগরিক-প্রশাসন সমন্বয় আরও জোরদার হবে।
ডিএমপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতা অপরিহার্য। যে কোনো সন্দেহজনক ঘটনা, আচরণবিধি লঙ্ঘন বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য দিলে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএমপির হটলাইন উদ্যোগ নির্বাচনকালীন সময়ে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করবে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি বাড়াবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।


