স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা

স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, আজ শনিবার (২ মে) থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচামাল বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্যের অস্থিতিশীলতা এবং সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সমানুপাতিক হারে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৩০ এপ্রিল সকালেই স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পুনরায় দাম অপরিবর্তিত রেখে বাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব সুস্পষ্ট। উল্লেখ্য, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের সংকট এবং বিশ্ববাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশীয় বাজারে এই মূল্যের প্রতিফলন ঘটছে।

চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই বছর বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৩৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৭ বার কমানো হয়েছে। ঘনঘন এই মূল্য পরিবর্তনের পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ নীতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের ওঠানামা কাজ করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বর্ণের এই অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি দেশের অলংকার শিল্প ও সাধারণ ক্রেতাদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। উচ্চমূল্যের কারণে অলংকার তৈরির চাহিদা কমতে শুরু করেছে, যা এই খাতের কারিগর ও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্ব বাড়লেও সাধারণ মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে এই ধাতু। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে মূল্যের এই অস্থিরতা আরও কিছুকাল বজায় থাকতে পারে। তবে বাজুস নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ