পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সংকট: পদত্যাগে মমতার অস্বীকৃতি ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক সংকট: পদত্যাগে মমতার অস্বীকৃতি ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজ্যে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। আজ ৭ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলায় আইনি জটিলতা তীব্রতর হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে রাজ্যে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২৯৩টি আসনে ভোট গণনার পর বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বিজেপি আগামী ৯ মে শনিবার শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কথা থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমান সরকার এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকতে পারে না। সাধারণত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলে রাজ্যপাল তাকে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ বা অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করায় সেই প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে। ভারতের বর্ষীয়ান আইনজীবী হরিশ সালভে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় ইস্তফা না দিলে রাজ্যপাল তা দাবি করতে পারেন। এরপরও অচলাবস্থা কাটলে ৮ মে শুক্রবার অর্থাৎ নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।

এদিকে রাজনৈতিক এই পালাবদলের আবহে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নানুর ও নিউ টাউনে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১ হাজার ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০টি প্রাথমিক অভিযোগ (এফআইআর) নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা রুখতে বিশেষ অভিযান চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের অবসান এবং বিজেপির উত্থানের এই সন্ধিক্ষণে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ