প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব: মির্জা ফখরুল

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব একটি ‘সৃজনশীল’ (ক্রিয়েটিভ) বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক ও প্রধান সরকারি দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাজেট উপস্থাপনের পর গত রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সব শ্রেণির মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটিকে একটি অনন্য ও সৃজনশীল আর্থিক পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরের বাজেট মূলত দেশের উৎপাদন খাতকে গতিশীল করা, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এই বাজেটে শিল্প ও উৎপাদন খাতে যে ধরনের শুল্ক ছাড় এবং রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বাজেটের খাতভিত্তিক বরাদ্দের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিশেষ করে শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতে যে বিশেষ তহবিল ও নীতিগত সুবিধা রাখা হয়েছে, তার ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সচল হবে। বিগত সময়ের নানামুখী সংকটের ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি খুব দ্রুত আবার শক্তিশালী অবস্থানে ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাজেট প্রণয়নের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা এবং তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনকে ধারণ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট প্রস্তুত করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতায় এই জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। শুধু সামষ্টিক অর্থনীতিই নয়, দেশের প্রধান প্রধান গণতান্ত্রিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফল হতে পারেনি। যার ফলে নতুন সরকার গঠনের পর এক ভঙ্গুর অর্থনীতি, অগোছালো প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং চরম অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এই চরম প্রতিকূল ও অগোছালো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণের পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের গুরুদায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক স্থীতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিটি নীতি ও পরিকল্পনায় স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে যে, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুত্থান ও পুনর্বাসন করতে বর্তমান সরকার কতটা আন্তরিক। একই সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটি টেকসই গতি ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।

এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করেন, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বর্তমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ