সুযোগ হাতছাড়া ও গোলখরায় বিশ্বকাপ থেকে তুরস্কের বিদায়, দেশবাসীর কাছে আর্দা গুলেরের ক্ষমা প্রার্থনা

সুযোগ হাতছাড়া ও গোলখরায় বিশ্বকাপ থেকে তুরস্কের বিদায়, দেশবাসীর কাছে আর্দা গুলেরের ক্ষমা প্রার্থনা

ক্রীড়া ডেস্ক

সুযোগ তৈরি করেও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থতার কারণে চলতি বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে তুরস্ক। গ্রুপ পর্বের ব্যাক-টু-ব্যাক দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলবারে মোট ৬২টি শট নিয়েও কোনো গোলের দেখা পায়নি তুর্কিরা। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ ব্যবধানে হারের পর, দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে দলটি। এমন টানা ব্যর্থতায় ফুটবল বিশ্বে তুরস্কের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে হারের পর তুরস্কের অন্যতম প্রধান তারকা ফুটবলার আর্দা গুলের দলের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের দায় স্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি মাঠের এই পারফরম্যান্সকে চরম হতাশাজনক এবং লজ্জাজনক বলে আখ্যায়িত করেন। গুলের বলেন, বিশ্বের বড় বড় নামী ক্লাবে প্রতিনিধিত্বকারী ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত দল থেকে এ ধরনের ফলাফল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে না পারায় তিনি নিজ দেশের ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাঠের নিয়ন্ত্রণে তুরস্ক এগিয়ে থাকলেও আক্রমণভাগের চূড়ান্ত ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের মূল কারণ। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তুরস্ক ৬৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। সেই ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২৮টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি শট অন-টার্গেট বা লক্ষ্যে ছিল। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে একটিও গোল আসেনি।

দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তুর্কিদের আধিপত্য আরও স্পষ্ট ছিল। পুরো ম্যাচে তারা রেকর্ড ৭৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখে। প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে মোট ৩৪টি শট নিলেও মাত্র ৬টি শট গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া তুরস্কের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ এসেছিল দ্বিতীয়ার্ধে। ফাউলের কারণে প্যারাগুয়ের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে পুরো দ্বিতীয় অর্ধে ১০ জনের দলের বিপক্ষে খেলার সুবিধা পায় তুরস্ক। কিন্তু প্রতিপক্ষ একজন কম নিয়ে খেললেও সেই কৌশলগত ও সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করতে পারেনি তুর্কি স্ট্রাইকাররা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে কেবল বলের দখল বা শটের সংখ্যা ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং সুযোগের নিখুঁত ব্যবহারই আসল। তুরস্কের ক্ষেত্রে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ তৈরির প্রক্রিয়া ইতিবাচক হলেও, প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ভেতরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অভাব এবং দুর্বল শট সিলেকশন তাদের ছিটকে দিয়েছে। ১০ জনের দলের বিপক্ষেও গোল করতে না পারাটা দলের কৌশলগত দুর্বলতা ও স্ট্রাইকারদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিকে ফুটিয়ে তোলে। এই হারের ফলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন দ্রুত দেশে ফিরতে হচ্ছে তুর্কি দলকে। রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের এই সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে উঠতে আগামীতে দলটিকে বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ