অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চলতি জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ১৯৫ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে দৈনিক গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
ব্যাংক খাতের বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুন মাসের এই ২০ দিনে বরাবরের মতোই রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সিংহভাগ রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৩৯ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৩ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে, যার পরিমাণ ১২১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এছাড়া বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
এর আগে সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। তার আগের মাস এপ্রিলে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে যথাক্রমে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ ডিসেম্বর ও নভেম্বর মাসে যথাক্রমে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ এবং ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এছাড়া গত বছরের অক্টোবর, সেপ্টেম্বর, আগস্ট ও জুলাই মাসে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার, ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার, ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।
বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা দেশে সর্বমোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা।


