সেনেগালকে হারিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে, হালান্ডের জোড়া গোল

সেনেগালকে হারিয়ে দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে, হালান্ডের জোড়া গোল

খেলাধুলা ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের খরা কাটিয়ে নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে নরওয়ে। গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরোপের এই দলটি। দলের এই ঐতিহাসিক জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যার পা থেকে এসেছে জোড়া গোল। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’ থেকে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট কাটল নরওয়েজিয়ানরা।

এর আগে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষবার নকআউট পর্বে খেলেছিল নরওয়ে। এরপর দীর্ঘ ২৬ বছর তারা বিশ্বমঞ্চের মূল পর্বেও জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। এবারের আসরে যোগ্যতা অর্জনের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা দলটির ফুটবলের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় নরওয়ে। তবে আর্লিং হালান্ডের একটি জোরালো শট অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। তবে সেনেগালের রক্ষণভাগ বেশিক্ষণ নরওয়েকে আটকে রাখতে পারেনি। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে মিডফিল্ডার পেদেরসেনের নিখুঁত গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। বিরতি থেকে ফিরে ৪৮ মিনিটে হালান্ড নিজের প্রথম এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন। তবে নরওয়ের এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি সেনেগাল। গোল হজম করার মাত্র পাঁচ মিনিট ১১ সেকেন্ডের মাথায় সেনেগালের ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার একটি পাল্টা আক্রমণে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন।

ম্যাচ যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রূপ নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আবারও জ্বলে ওঠেন হালান্ড। সতীর্থ স্যান্ডার বের্গের ক্রস থেকে পেনাল্টি বক্সের বাম পাশে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচটি প্রায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় নরওয়ে।

খেলার নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) সেনেগাল অলআউট আক্রমণে যায়। বক্সের ভেতর থেকে ইসমাইলা সার নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-২। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেনেগালের সমতায় ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও রেফরির শেষ বাঁশিতে নরওয়ের জয় নিশ্চিত হয়।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’-তে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল নরওয়ে। এর আগের ম্যাচে তারা ইরাককে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছিল। দুই ম্যাচে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা গ্রুপ পর্বের বাধা পার হলো, যা বৈশ্বিক ফুটবলে নরওয়ের নতুন পথচলার এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে সেনেগালের নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ল।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ