আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূলের শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূলের শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

তৃণমূল পর্যায়ে শিশুসহ সব রোগীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে পুরোনো ধ্যানধারণা পরিহার করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার্থে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।

আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শিশু উল্লেখ করে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশই শিশু। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সবল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এই চিকিৎসাসেবা কেবল রাজধানী ঢাকা বা বড় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও শিশুদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে হবে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য অধিক হারে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই দরিদ্র পরিবারের শিশুদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জানান, আর্থিক সংকটের কারণে দেশের বহু দরিদ্র পরিবার শিশুদের সময়মতো সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে না। সরকারের এই আর্থিক অনুদান ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে প্রান্তিক ও অসহায় পরিবারের শিশুরা জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসাসেবা সহজে লাভ করতে পারবে। চিকিৎসাসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপরও অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের রোগী কল্যাণ সমিতির কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের এই সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের মানবিক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রমের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ