গোপন বৈঠক করলে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানের কোনো কার্যকারিতা থাকে : আমজনতা সদস্যসচিব

গোপন বৈঠক করলে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানের কোনো কার্যকারিতা থাকে : আমজনতা সদস্যসচিব

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ২০২৫ সালের শুরুতে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

তারেক রহমান তার ফেসবুক পেজে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত বক্তব্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতা-সদস্য এ বিষয়ে মন্তব্য করতে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বৈঠক গোপন রাখা হয়েছিল, তবে তা প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এভাবে গোপন বৈঠক করলে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানের কোনো কার্যকারিতা থাকে না।”

মো. তারেক রহমানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর ভারত ও পাকিস্তান শাখার সঙ্গে বাংলাদেশের শাখার সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশা করে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পার্শ্ববর্তী দেশের শাখার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করবে। গোপন বৈঠক করলে তা ষড়যন্ত্রে রূপ নিতে পারে।”

তিনি আরও যুক্তি দেন, রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের স্টেকহোল্ডার যখন বিদেশি প্রতিনিধি বা শত্রুর সঙ্গে বৈঠক করে, সেটি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য করা হয়। তবে ছোট রাজনৈতিক দল যদি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সহযোগিতা চায়, সেটি সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “ভারতকে শত্রু মনে করে না জামায়াত। তারা ভারতের সহযোগিতা চায়। রাষ্ট্র হিসেবে দেশ যেকোনো পরামর্শদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল যখন পার্শ্ববর্তী দেশের সহযোগিতা চায়, সেটি সার্বভৌমত্বের সংকট তৈরি করে।”

এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যদি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে, তবে তা জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা প্রভাবিত করতে পারে।

তারা আরও উল্লেখ করেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক যোগাযোগ রাষ্ট্রের সীমিত দায়িত্বে থাকা উচিত। রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের সম্পর্কের প্রচেষ্টা উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

অর্থাৎ, ডা. শফিকুর রহমানের বৈঠকের বিষয়টি কেবল একটি রাজনৈতিক দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তা আরও প্রতিপন্ন করছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক দলের বৈঠক নতুন নয়। তবে, সাধারণত এসব বৈঠককে গোপন রাখলে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা এবং স্বচ্ছতার বিষয়টি গুরুত্ব বহুল।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজস্ব স্বার্থে বিদেশি সাহায্য চাইতে থাকে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্য ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সমালোচনামূলক আলোচনার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলের বৈঠক ও ঘোষণার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সংক্ষেপে, জামায়াতে ইসলামীর ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক এবং সেই বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করেছে, যাতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ