আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আব্দুল্লাহ আবু, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম এবং দুই সন্তান কাজী আহসান উল্লাহ শিবলী ও কাজী আমরীন সুলতানার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক পিপি মো. আব্দুল্লাহ আবুর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঢাকা মহানগরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিভিন্ন বিচারকের সঙ্গে যোগসাজশে স্বর্ণ ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি ও প্রভাবশালী ভিআইপি শ্রেণির আসামিদের জামিন প্রদান, খালাস, সাজা হ্রাস কিংবা সাজা মওকুফের ব্যবস্থা করে দেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের তথ্যানুসারে, এই অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মো. আব্দুল্লাহ আবু নিজ নামে এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশত্যাগের মাধ্যমে বিদেশে পলায়নের চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কার তথ্য দুদকের কাছে রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে দুদক আদালতকে জানায়, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ একান্ত প্রয়োজনীয়।
আদালত দুদকের আবেদনের যুক্তি ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা করে মনে করেন, অভিযোগের প্রকৃতি ও অনুসন্ধানের বর্তমান পর্যায়ে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আইনসঙ্গত ও যুক্তিসংগত। ফলে আদালত চারজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশে যাতায়াত বন্ধ রাখার আদেশ দেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি প্রচলিত আইনগত ব্যবস্থা। এতে করে তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্পদের হিসাব যাচাইয়ের সুযোগ পায়। বিশেষ করে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকলে অভিযুক্তদের বিদেশ গমনের ওপর আদালতের নিয়ন্ত্রণ অনুসন্ধানকে কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আদালতের এই আদেশের পর অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাব্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, সাবেক এই পিপি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আদালতের আদেশ ঘিরে আইন অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার অগ্রগতি ও দুদকের অনুসন্ধান ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


