অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সক্ষমতা, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো-২০২৬-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। তিন দিনব্যাপী এই শিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয় সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দেশীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের পণ্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উৎপাদন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ)-এর সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কৃষি যন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক উপকরণসহ নানামুখী পণ্যের মাধ্যমে এই খাত স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি সম্ভাবনাও তৈরি করছে। তিনি বলেন, এই এক্সপোর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন, একই সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিজে) প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। কৃষি খাত থেকে শুরু করে ম্যানুফ্যাকচারিং, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পে দেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য হলেও শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় বিকশিত হয়নি।
তিনি বলেন, শিল্প কাঠামোর টেকসই রূপান্তরের জন্য লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই খাতের বিকাশ ঘটলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং নীতিমালা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি জনবল ও সহায়ক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়ন শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে, যা নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট (ফাইন্যান্স, কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট) হোসনা ফেরদৌস সুমি। তিনি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে উৎপাদন বৈচিত্র্যকরণ এবং শিল্প খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রদর্শনীটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ)। এতে সহযোগিতা করছে এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এক্সপোটি ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে দেশীয় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিভিন্ন পণ্য, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের আয়োজন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের বিকাশে নীতিগত সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


