বিনোদন ডেস্ক
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের সারে শহরে একটি ক্যাফে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। জনপ্রিয় কমেডিয়ান কপিল শর্মার মালিকানাধীন ‘ক্যাপস ক্যাফে’র ঠিক পাশেই অবস্থিত ‘চাই সুট্টা বার’ নামক প্রতিষ্ঠানে এই হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই বিতর্কিত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়, হামলার পর ‘টাইসন বিষ্ণোই জোরা সিন্ধু’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার পেছনে রয়েছে। একই বার্তায় ক্যাফে মালিক ও কপিল শর্মাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের পরিণতিও একই হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কোনো আইনি সংস্থা এখন পর্যন্ত এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সত্যতা বা হামলার সাথে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেনি।
কপিল শর্মার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও একাধিকবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ক্যাফেটি উদ্বোধনের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সেখানে হামলা চালিয়েছিল খলিস্তানি সমর্থকরা। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে অন্তত তিনবার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম জড়িয়ে এই ক্যাফে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় ওই এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কানাডায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় এই ধরনের পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধী গোষ্ঠীগুলো মুক্তিপণ আদায় বা প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে এই কৌশল গ্রহণ করছে বলে ধারণা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সারে শহরের পুলিশ বিভাগ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ক্যাফে সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান গ্রহণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে সাইবার বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
কানাডার স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের সহিংসতা রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও ধারাবাহিকভাবে একই প্রতিষ্ঠানে বা তার আশেপাশে হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।


