অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৫৮ জন মূল চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রোববার (৩ মে, ২০২৬) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার জানান, চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান এবং আকস্মিক ব্লকেড পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করতে কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে তল্লাশিচৌকি স্থাপনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের আটকের পর যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে গুরুতর অপরাধে জড়িতদের নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, “জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওই এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে রায়েরবাজার এলাকায় একটি নতুন থানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।” এছাড়া সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মূলত নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লিপ্ত রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে না। তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতা দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
অভিযানের কারিগরি ও কৌশলগত দিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিএমপি প্রধান জানান, ডিবির (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পাশাপাশি সিটিটিসি (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের অবস্থান ও গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর বড় কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল ও ঝটিকা অভিযান জোরদার করা হয়েছে যাতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি বড় মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে অনলাইন জুয়ার মতো নব্য সামাজিক ব্যাধি রুখতে বিশেষায়িত টিম কাজ করছে। কমিশনার আশ্বস্ত করেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীদের মূলোৎপাটন করে নগরবাসীর পূর্ণ স্বস্তি ফিরে না আসবে, ততক্ষণ এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ডিএমপির এই সাঁড়াশি অভিযান রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্পট ম্যাজিস্ট্রেসি পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন থানা স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি টহল ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে জনবল ও রসদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।


