আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সরকার গঠন নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় পড়েছেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপথি বিজয়। তাঁর রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) নির্ধারিত মুখ্যমন্ত্রী পদের শপথ গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর টিভিকে-র এককভাবে সরকার গঠনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজভবন সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কোনো সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে গভর্নর বিধানসভা ভেঙে দিয়ে কেরালার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, যেখানে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনী সমীকরণ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংকট
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদু সংখ্যা ১১৮টি আসন অর্জন করতে পারেনি দলটি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের ৫টি আসনের সমর্থন পাওয়ায় বিজয়ের জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১২-তে (বিজয় দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় একটি আসন গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে)। ফলে সরকার গঠনে এখনো অন্তত ৬টি আসনের ঘাটতি রয়েছে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত ডিএমকে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন পেয়েছে। এছাড়া পিএমকে ৪টি, আইইউএমএল ২টি এবং বাম দলগুলোর (সিপিআই ও সিপিআই-এম) ঝুলিতে রয়েছে মোট ৪টি আসন। অন্যদিকে বিজেপি, ডিএমডিকে ও এএমএমকে একটি করে আসন পেয়েছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও বামপন্থীদের ভূমিকা
সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন মূলত বাম দল এবং নির্দলীয় প্রার্থীদের হাতে। সূত্র জানিয়েছে, বামপন্থী দল সিপিআই এবং সিপিআই(এম) তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সময় চেয়েছে। পাশাপাশি দুটি আসনে জয়ী বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচি (ভিসিকে) পার্টির নির্ধারিত বৈঠকটিও স্থগিত করে শুক্রবার পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে টিভিকে প্রধান বিজয় রাজভবনে গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেন। দলের সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুন একটি আইনি প্রতিনিধি দল নিয়ে পুনরায় গভর্নরের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজভবনের ভাষ্যমতে, সমর্থনকারী বিধায়কদের সুনির্দিষ্ট তালিকা ও শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া সরকার গঠনের অনুমতি প্রদান সাংবিধানিকভাবে বিতর্কিত হতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি
বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ফলে বর্তমানে তামিলনাড়ুতে একটি প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিজয় প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন, তবে রাজ্যটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ধাবিত হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দলীয় ও ছোট দলগুলোর সমর্থন আদায়ে টিভিকে বর্তমানে তীব্র দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, গভর্নর সাধারণত বৃহত্তম দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেন। তবে বর্তমান গভর্নর অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করায় বিজয়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পরীক্ষাটি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা তামিলনাড়ুর রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


