জাতীয় ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। শনিবার (৯ মে) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট (বিজি-২০১) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
রাষ্ট্রপতির এই সফর মূলত তাঁর শারীরিক অবস্থার ফলোআপ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। সফরকালে রাষ্ট্রপতির সাথে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা, পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফও এই সফরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দও এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ। উল্লেখ্য যে, গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন করেছিলেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। এবারের যুক্তরাজ্য সফরটি সেই চিকিৎসারই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করবেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৮ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানের এই অনুপস্থিতিকালীন সময়ে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে।
যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির এই সফরটি গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা সেবার জন্য যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোর বিশেষ সুনাম রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সুস্থতা এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা রাষ্ট্রপতির কার্যক্ষমতা এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।


