জাতীয় ডেস্ক
মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা পরলোকগমন করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার কন্যা তাসনিম সিনহা। এক বার্তায় তিনি তার পিতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নির্বাচনী এলাকা মুন্সিগঞ্জসহ দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মিজানুর রহমান সিনহা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি সুপরিচিত নাম। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নীতি নির্ধারণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সংসদীয় রাজনীতিতেও তিনি অত্যন্ত সফল ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬ সালে সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার মেয়াদে দেশের চিকিৎসাসেবা খাতের উন্নয়ন ও গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতা সর্বশেষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথেও যুক্ত ছিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি থেকে তাকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে তার চিকিৎসার স্বার্থে এবং দলের সাংগঠনিক প্রয়োজনে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও মিজানুর রহমান সিনহা একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষানুরাগী হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। মুন্সিগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলের সামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন দাতব্য কার্যকলাপে তার বিশেষ সুখ্যাতি ছিল। দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় মানুষের সাথে তার গভীর সংযোগ ছিল বলে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্মরণ করছেন।
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর থেকে মরহুমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তার জানাজার নামাজ এবং দাফনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন শোক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।


