জনগণ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল

জনগণ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামীতে কখনোই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে পারবে না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের জনগণ মহান স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের ক্ষমতায় বসাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বুধবার (২০ মে, ২০২৬) দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক তৎপরতার সমালোচনা করে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী বর্তমানে সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা রটাচ্ছে যে, বর্তমান প্রশাসন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়। ধর্মের নামে রাজনীতি করা একটি বিশেষ দলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তারা প্রচার করছে যে জামায়াত ক্ষমতায় চলে এসেছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, অতীতেও দেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। রাজনীতিতে মিথ্যাচার পরিহার করে সত্যের ভিত্তিতে জনগণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির রাষ্ট্রীয় সংস্কার ভাবনার পক্ষে অবস্থান নিয়ে মহাসচিব বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা দেশের মানুষ কখনোই ক্ষমা করবে না।

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এই বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণরূপে সচল করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের ‘সবুজ পাতায়’ (অনুমোদিত প্রকল্প তালিকা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পূর্বে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিমানবন্দরটি চালুর বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এই বিমানবন্দরটি চালু হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে এবং এটি জেলাবাসীর জন্য একটি গর্বের স্মারক হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার এমন একটি টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় যা দীর্ঘকাল সচল থাকবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে একটি স্থায়ী বন্দোবস্ত নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। জনগণের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে মন্ত্রণালয় দিনরাত পরিশ্রম করছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরটি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও জেলা সদরে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এটি পুনরায় চালুর দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের প্রক্রিয়াটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ