জাতীয় ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চলমান ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে যুক্তরাজ্যের ‘ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড’-এর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন স্ট্র্যাটেজি ডেলিভারি লিড জোনাথন লেজারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, চাকুরির বাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মকে কেবল প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের চাকুরির বাজারের জন্য যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীতকরণ জরুরি বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ (ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিঙ্কেজ) জোরদারকরণের বিষয়টি। বর্তমান যুগের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকুরির বাজারের চাহিদা মেটাতে পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জানান, বাজার-চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক কারিকুলাম ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে তা দেশের বেকারত্ব হ্রাসে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের উন্নত শিক্ষা কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি জোনাথন লেজার বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় চাহিদা এবং অগ্রাধিকারের সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে তাদের কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের পথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। যুক্তরাজ্যের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা মডেল কীভাবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে ব্যাপারেও বৈঠকে প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেমব্রিজ পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের পিয়ারসন এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিবৃন্দও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ও বাণিজ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরামের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাংলাদেশের শিক্ষা কূটনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্কলারশিপ ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে পারে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রাপ্তির পথ সুগম হবে। সর্বোপরি, এই অংশীদারিত্ব দেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


